Breaking
Fri. Sep 11th, 2026

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে লালদিয়া টার্মিনাল মাইলফলক হবে : অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘দেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল একটি মাইলফলক হবে। এটি শুধু চট্টগ্রাম কিংবা বাংলাদেশেরই নয়; পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক হাব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আজ রোববার চট্টগ্রাম বন্দরের ‘লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনালের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ডেনমার্কভিত্তিক বিশ্বসেরা টার্মিনাল অপারেটর এপিএম টার্মিনালস্ ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার বিষয়ে প্রায়ই কথা উঠে। আসলে বাণিজ্যিক রাজধানী তো করার বিষয় নয়, হওয়ার বিষয়। চট্টগ্রামে এই ধরনের আরো অনেক প্রকল্প হবে, বিদেশী বিনিয়োগ আসবে। এই ধরনের কার্যপরিধি বাড়তে বাড়তে চট্টগ্রাম সত্যিকারের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে রূপ নেবে।’

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের নির্বাচিত সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব সরকার। যার আছে উচ্চাকাঙ্ক্ষী অর্থনৈতিক কর্মসূচি। তবে আমরা সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে আমাদের অর্থনৈতিক কাঠামো ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছি।’

ডেনমার্কের বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠান এসপিএম বিশ্বের শীর্ষ বন্দরে অনেক টার্মিনাল পরিচালনা করছে। তারা চট্টগ্রামের এই টার্মিনাল নির্মাণে ৫৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে এবং যতটুকু জানি, তা পর্যায়ক্রমে আরো বাড়তে থাকবে। এপিএম মুলারের বাংলাদেশে আসাটা একটা মাইলস্টোন। তারা লালদিয়ায় আধুনিক বন্দরও নির্মাণ করবে। এ ক্ষেত্রে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মিত হয়ে গেলে এটার সুবিধা শুধু চট্টগ্রাম কিংবা বাংলাদেশ পাবে তা নয়; এই টার্মিনালটির সুবিধা ভোগ করতে পারবে পুরো অঞ্চল। আঞ্চলিক বন্দরগুলোও তাদের প্রয়োজনে লালদিয়ায় কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করতে পারবে। সেটা হলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরো বেশি লাভবান হওয়ার সুযোগ পাবে।’

তিনি বলেন, আমরা যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির স্বপ্ন দেখি, তা নিয়ে অনেকের মধ্যে সংশয় দেখা যায়। কিন্তু বিদেশী বিনিয়োগের এখন যে গতি শুরু হয়েছে, বেসরকারি খাতও যদি এভাবে এগিয়ে আসে তাহলে অবশ্যই এই দেশ সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা এই দেশের অর্থনীতিকে একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই, এই দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মানের পরিবর্তন ঘটাতে চাই। সে জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের, অংশীদারদেরও এগিয়ে আসতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। এখানে বাণিজ্যিক হাব রয়েছে, সেটি আরো প্রসারিত হচ্ছে। বন্দরে বিনিয়োগে আগ্রহী আরো অনেক প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনা চলছে। আজ নতুন অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে। আমাদের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য আন্তর্জাতিক মানের হতে চলেছে। লালদিয়া এপিএম টার্মিনাল পিপিপি পদ্ধতিতে বড় বিনিয়োগ। এখানে অনেক ফ্যাসিলিটিজ থাকবে, যা জাতির জন্য সুসংবাদ।’

স্বাগত বক্তব্যে এপিএম টার্মিনালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রমেশ ডেভিড বলেন, ‘টার্মিনালে অ্যাডভান্সড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। টার্মিনালে সাতটি শিপ-টু-শোর গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৩২টি ইলেকট্রিক রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন এবং ৪১টি ইলেকট্রিক টার্মিনাল ট্র্যাক্টর থাকবে। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেনার হ্যান্ডেলিংয়ের মাত্রা আরো বৃদ্ধি পাবে।’

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমি খুবই আনন্দিত। চট্টগ্রাম বন্দর দেশের মেজর গেটওয়ে। এ বন্দর দেশের ৯২ শতাংশ আমদানি-রফতানি এবং ৯৮ শতাংশের বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে। ডেনমার্কে গ্রিন টেকনোলজির কিছু টার্মিনাল দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। ১০ বছরে আমাদের কনটেইনার হ্যান্ডলিং দ্বিগুণ হবে। আমরা বিদেশী বিনিয়োগ পার্টনারকে বাংলাদেশে স্বাগত জানাই।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, এপিএম টার্মিনালসের বিভি’র গ্লোবাল হেড অব বিজনেস ইমপ্লেমেন্টেশন জ্যাক ক্রেইগ, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার।

অনুষ্ঠানের শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ অতিথিবৃন্দ মঞ্চে এসে লালদিয়া কন্টেইনাল টার্মিনাল ভিত্তিস্থাপন ও আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিসের প্রেসিডেন্ট আমিরুল হক, চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র : বাসস

(মাহফুজুল ইসলাম)

By WNB24

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *