Breaking
Thu. Sep 10th, 2026

ভোলায় আটা-রুটির কারখানায় মিললো প্রায় ৬ হাজার ডিজেল, মালিকদের জরিমানা

ভোলার বিসিক শিল্প নগরীতে অবৈধভাবে মজুতকৃত প্রায় ছয় হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত পরিচালিত এই যৌথ অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জানা যায়, জব্দকৃত ডিজেলের মধ্যে রয়েছে- খান ফ্লওয়ার মিলের (জেকে ট্রেডার্স) ৩ হাজার ৯৭৪ লিটার ও তৃষ্ণা বেকারির ২ হাজার লিটার। এছাড়াও খান ফ্লাওয়ার আটার মিলের যে কক্ষে অবৈধভাবে তেল মজুত রাখা হয়েছিল, সেটি সিলগালা করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইয়েদ আহমেদ বুলবুল বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিসিক শিল্প নগরীর দুটি কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে এসব ডিজেল জব্দ করেছি। কারখানা মালিকরা তেল মজুদের জন্য তাদের কোন বৈধ কাগজপত্র না থাকায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত আটা-ময়দা তৈরির খান ফ্লওয়ার মিল তাদের কারখানায় দুটি খালি পানির ট্যাংক ও ড্রামের ভেতরে ৩ হাজার ৯৭৪ লিটার জ্বালানি তেল মজুত করে রাখে। গোয়েন্দা সংস্থার এমন তথ্যের ভিক্তিতে প্রথমে কারখানাটি অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরবর্তীতে বিসিকের মধ্যে থাকা খাদ্য উৎপাদনকারী আরেক প্রতিষ্ঠান তৃষ্ণা বেকারিতে অভিযান পরিচালনাকালে তাদের একাধিক ড্রামের মধ্য থেকে ২ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। অভিযানে খান ফ্লওয়ারের মালিক জামাল খানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড, তৃষ্ণা বেকারির মালিক মো. জুয়েলকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আনাদায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ডসহ জব্দকৃত ডিজেল বিক্রি করে টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে ওই দুই কারখানা মালিক এসব তেল মজুদ রাখার বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি ভ্রাম্যমাণ আদালতকে।

এদিকে জরিমানা ও তেল জব্দকে কেন্দ্র করে খান ফ্লাওয়ার মিলের মালিক ও শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপর চড়াও হয়। তারা সড়কে প্রশাসনের গাড়ির সামনে ইট ও বালুর বস্তা ফেলে পথ অবরোধ করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। পরে খবর পেয়ে নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিন মধ্যরাতে অভিযান পরিচালনাকালে সাংবাদিককে হত্যার হুমকির ঘটনায় ভোলা সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক উৎপল দেবনাথ। তিনি বলেন, বিসিকের মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে আমাকে হুমকি দিয়েছেন জামাল খান। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

তবে অভিযানের ঘটনায় খান ফ্লওয়ার মিলের মালিক জামাল খান বলেন, আমার কারখানার পণ্য আনা নেওয়ার জন্য ১০টি ট্রাকে দুটি ট্রলার চলাচল করে এবং কারখানায় জেনারেটর রয়েছে। চলমান জ্বালানি তেলের সংকটের মধ্যে আমার কারখানা চালানো জন্য গত এক সপ্তাহ আগে জ্বালানি তেলের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছিলাম এবং পরবর্তীতে এনডিসির কথা মতো ইলিশা এগ্রো থেকে গতকাল তেল সংগ্রহ করেছি এবং বলা হয়েছে অন্যদেরকেও তেল সরবরাহ করতে, করেছি। তাহলে আমার কারখানায় অভিযান চালানো হল কেন? চোরাই বা অবৈধভাবে তো তেল সংগ্রহ করেনি। এছাড়া প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের মামলা দিয়ে হয়রানি ও হত্যার হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

এদিকে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিককে হুমকির ঘটনায় গভীর উদ্ভেগ ও প্রতিবাদসহ প্রশাসনের কাছে হুমকিদাতাকে অতি দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকেরা।

প্রসঙ্গত, সারাদেশে জ্বালানি তেলের সংকট থাকার কারণে ভোলা জেলার পেট্রোল পাম্পগুলো প্রতি সপ্তাহে চার হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার লিটারের বেশি তেল পায় না। সেখানে দুইজন মজুমদার ৫৯৭৪ লিটার তেল অবৈধভাবে মজুত করে রেখেছে। যা একটি পেট্রোল পাম্পের প্রাপ্তির চেয়েও বেশি। (ডেস্ক রিপোর্ট)।

By WNB24

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *