Breaking
Fri. Sep 11th, 2026

মার্কিন আগ্রাসন উপেক্ষা করে ইরানের সিনেমা হলে উপচে পড়া ভিড়

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত আগ্রাসন এবং কড়া অর্থনৈতিক অবরোধের মুখেও ইরানের সাংস্কৃতিক জীবন থমকে যায়নি। দেশটির সিনেমা হলগুলোতে সাধারণ মানুষের ঢল তারই অন্যতম বড় প্রমাণ হয়ে উঠছে। একের পর এক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আর কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও ইরানিরা বিনোদনের স্বাদ নিতে প্রেক্ষাগৃহমুখী হচ্ছেন। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা শনিবার (১৮ জুলাই) জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে দেশজুড়ে সিনেমা হলগুলো ২ লাখ ৪ হাজারের বেশি দর্শককে স্বাগত জানিয়েছে। এই সময়ে বক্স অফিসে টিকিট বিক্রি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৩১ বিলিয়ন তোমান, যা মার্কিন ডলারের হিসাবে প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার ৩০৪ ডলার। সিনেমাসাহর জনসংযোগ বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৭তম সপ্তাহে (শনিবার ১০ জুলাই থেকে শুক্রবার ১৬ জুলাই) ইরানের সিনেমা হলগুলোতে মোট ২ লাখ ৪ হাজার ৭৮৮ জন দর্শক সিনেমা দেখেছেন। এই সাত দিনে মোট টিকিট বিক্রি হয়েছে ৩০ বিলিয়ন ৯৫৮ মিলিয়ন তোমানের, যা মার্কিন ডলারে প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার ৮৪ ডলারের সমান।

সবচেয়ে বেশি দর্শক টেনেছে দেশের পাঁচটি প্রধান সিনেমা ক্যাম্পাস, যার বেশিরভাগই রাজধানী তেহরানে অবস্থিত। এর মধ্যে টিকিট বিক্রির শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে তেহরানের খোরোশ সিনেমা ক্যাম্পাস, যেখানে ১৫ হাজার ৫৬৭ জন দর্শক এসেছেন। এরপর যথাক্রমে তেহরানেরই ইরান মল সিনেমা ক্যাম্পাসে ১২ হাজার ৩৭৭ জন এবং তেহরানের হাদিশ মল সিনেমা ক্যাম্পাসে ৭ হাজার ৩৫৩ জন দর্শক সমাগম হয়েছে। তেহরানের বাইরে একমাত্র ব্যতিক্রম হিসেবে চতুর্থ স্থানে রয়েছে শিরাজ শহরের শাহর আফতাব আর্ট সিনেমা কমপ্লেক্স, যেখানে ৫ হাজার ৪১২ জন দর্শক এসেছেন। আর ৫ হাজার ১৪৮ জন দর্শক নিয়ে পঞ্চম স্থানটি দখল করেছে তেহরানের ঐতিহ্যবাহী আজাদি সিনেমা ক্যাম্পাস।

সিনেমা বিক্রির এই দৌড়ে সুরশ সেহাত পরিচালিত ‘দ্য পুল’ সিনেমাটি গত সপ্তাহের সবচেয়ে জনপ্রিয় ছবি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। সিনেমাটি দেখেছেন ৫৭ হাজার ৫৭৯ জন দর্শক। দর্শকপ্রিয়তায় ৪১ হাজার ৪৬৯ জন দর্শক নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কাজেম দানেস পরিচালিত ‘জান্দে শুর’। বহমান গুদারজি পরিচালিত ‘জেমস বন্ড আইল্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার’ ৩৩ হাজার ৬৮৮ জন দর্শক নিয়ে তৃতীয়, হাদি নায়েজি পরিচালিত ‘অ্যান্টিক’ ১৩ হাজার ৪৪৮ জন দর্শক নিয়ে চতুর্থ এবং আলী বেহরাদ পরিচালিত ‘তেহরান কেনারাত’ ১২ হাজার ২৭৯ জন দর্শক নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে।

সিনেমার টিকিট বিক্রি ও প্রদর্শনী ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির (সেমফা) পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু করে প্রতি সপ্তাহেই দর্শকের এই জোয়ার বজায় ছিল। প্রথম সপ্তাহে যেখানে দর্শক ছিল ৩৭,৮৭৯ জন, সেখানে পঞ্চম সপ্তাহে এসে তা দাঁড়ায় ১,৪০,০৫৫ জনে। এরপরের সপ্তাহগুলোতে ধারাবাহিকভাবে ২ লাখেরও বেশি করে দর্শক সিনেমা হলে এসেছেন। বিশেষ করে দশম ও একাদশ সপ্তাহে দর্শক সংখ্যা সর্বোচ্চ ২ লাখ ৭০ হাজার এবং ২ লাখ ৯৭ হাজার ছাড়িয়ে যায়। কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক নানা সংকটের মাঝেও বিনোদনের এই বিপুল জোয়ার প্রমাণ করে, কোনো চাপই ইরানিদের সিনেমা প্রেমের পথে বাধা হতে পারছে না।
(বিনোদন ডেস্ক)

By WNB24

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *