Sun. Jun 21st, 2026

ট্রাম্প কেন নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন না জানালো নরওয়েজিয়ান কমিটি

নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি শুক্রবার ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা ও গণতন্ত্র আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী মারিয়া করিনা মাচাডোকে ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করেছে। এই ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন আলোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে আসছিলেন। তিনি দাবি করেছেন, তিনি অন্তত সাতটি আন্তর্জাতিক সংঘাত সমাধান করেছেন। উল্লেখ্য, তার ডেমোক্র্যাটিক পূর্বসূরি বারাক ওবামা ২০০৯ সালে এই সম্মান অর্জন করেছিলেন।

নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি ট্রাম্পের দাবিকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে জানিয়েছে, নোবেল পুরস্কারের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় শুধুমাত্র আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছা ও কাজের ভিত্তিতে। কমিটির চেয়ারম্যান জোর্গেন ওয়াটনে ফ্রাইডনেস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমাদের কমিটির সভাকক্ষে সব লরিয়েটদের ছবি রয়েছে। সেই ঘরটি সাহস এবং সততার প্রতীক। আমরা শুধুমাত্র আলফ্রেড নোবেলের কাজ ও ইচ্ছার ভিত্তিতে আমাদের সিদ্ধান্ত নিই।” নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি, যা সাহিত্য, রসায়ন, পদার্থবিদ্যা, চিকিৎসা ও শান্তি ক্ষেত্রে নোবেল পুরস্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, ১৮৯৫ সালে আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছার ভিত্তিতে পুরস্কার বিতরণ করে।

কেন ট্রাম্প পেলেন না শান্তি পুরস্কার?

ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন, যার মধ্যে রাশিয়া, রুয়ান্ডা, গ্যাবন, আজারবাইজান ও কম্বোডিয়া উল্লেখযোগ্য। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং পাকিস্তানের নেতা শেহবাজ শরিফও তাঁকে মনোনীত করেছেন।

তবে কমিটি জানিয়েছে, পুরস্কারের ক্ষেত্রে প্রার্থী নির্বাচনে প্রচারাভিযান এবং মিডিয়ার প্রভাব বিবেচনা করা হয় না। জোর্গেন ওয়াটনে ফ্রাইডনেস বলেন, “প্রতি বছর আমরা হাজার হাজার চিঠি পাই, যেখানে মানুষ লিখে দেয় তাদের মতে শান্তি কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। আমরা পুরস্কার প্রদানের সময় সাহস এবং সততাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই।”

ট্রাম্প বিভিন্ন সময়, এমনকি জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে পুনরায় দাবি করেছেন, তিনি ‘সাত মাসে সাতটি যুদ্ধ শেষ করার’ জন্য নোবেল পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। গাজায় বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি তাঁর মধ্যস্থতায় সমাধান হওয়া অষ্টম সংঘাত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তিনি বৃহস্পতিবার বলেন, “তাদের যা করতে হয়, তারা করুক। আমি জানি, আমি নোবেল চাইনি। আমি যা করেছি বহু মানুষকে বাঁচানোর জন্য।”

নরওয়েজিয়ান কমিটির এই স্পষ্ট ব্যাখ্যা ট্রাম্পের দাবিকে প্রেক্ষাপটে স্থাপন করেছে এবং দেখিয়েছে, শান্তি পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে সাহস, সততা এবং নোবেলের ইচ্ছাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড। (মাহফুজুল ইসলাম)

By WNB24

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *