Sun. Jun 21st, 2026

খামেনির মৃত্যুর পর ইরানে নেতৃত্বে আসছেন কে

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার খবর একাধিক ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করার পর দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করেছে, যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হয়েছেন। তবে তার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষিত উত্তরসূরি না থাকায় পরবর্তী নেতৃত্ব কে নেবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, ৮৮ সদস্যের নির্বাচিত আলেমদের পরিষদ অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করবে। বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাব্য কয়েকজন প্রার্থীকে ঘিরে আলোচনা চলছে।

মুজতবা খামেনি
বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার দ্বিতীয় পুত্র মুজতবা খামেনি (৫৬)। তিনি প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ও তাদের স্বেচ্ছাসেবী আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে শিয়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পিতা থেকে পুত্রের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরকে ভালো চোখে দেখা হয় না। এছাড়া মুজতবা উচ্চপদস্থ আলেম নন এবং সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক পদেও নেই— যা তার জন্য বড় বাধা হতে পারে। আলিরেজা আরাফি
তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত হলেও প্রতিষ্ঠিত আলেম এবং খামেনির ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত আলিরেজা আরাফি (৬৭)। তিনি বর্তমানে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের উপ-চেয়ারম্যান। এছাড়া তিনি গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন, যা নির্বাচন প্রার্থী ও পার্লামেন্টে পাস হওয়া আইন যাচাই করে। বর্তমানে তিনি ইরানের সেমিনারি ব্যবস্থার প্রধান। তবে রাজনৈতিকভাবে তিনি খুব প্রভাবশালী নন এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রমাণও কম।

মোহাম্মদ মেহদি মিরবাগেরি
কট্টরপন্থি আলেম হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ মেহদি মিরবাগেরি (৬০)। তিনি অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের সদস্য এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে রক্ষণশীল অংশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি পশ্চিমা বিশ্বের বিরোধিতায় কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত। বর্তমানে তিনি উত্তরাঞ্চলীয় পবিত্র নগরী কোমে অবস্থিত ইসলামিক সায়েন্সেস একাডেমির প্রধান।

হাসান খোমেনি
ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লা আয়াতুল্লাহ খোমেনির নাতি হাসান খোমেনি (৫০)। পারিবারিক ঐতিহ্য ও ধর্মীয় বৈধতার কারণে তার নাম আলোচনায় রয়েছে। তিনি খোমেনি মাজারের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। যদিও তিনি কখনো জনসম্মুখে বড় কোনো সরকারি পদে ছিলেন না এবং নিরাপত্তা কাঠামো বা ক্ষমতাকেন্দ্রের ওপর তার প্রভাব সীমিত বলে মনে করা হয়। তিনি তুলনামূলকভাবে কম কট্টরপন্থি হিসেবে পরিচিত।

হাসেম হোসেইনি বুশেহরি
অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের প্রথম উপ-চেয়ারম্যান হাসেম হোসেইনি বুশেহরি (৬০)। উত্তরাধিকার প্রক্রিয়া পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তিনি খামেনির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হলেও দেশীয় রাজনীতিতে তার প্রোফাইল তুলনামূলকভাবে কম এবং আইআরজিসির সঙ্গে তার দৃশ্যমান ঘনিষ্ঠতা নেই।

সিদ্ধান্ত এখন অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের হাতে
ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোয় সর্বোচ্চ নেতার পদ অত্যন্ত ক্ষমতাধর। সামরিক বাহিনী, বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ফলে নতুন নেতা নির্বাচন শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এখন নজর থাকবে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের বৈঠকের দিকে— সেখানেই নির্ধারিত হবে, কে হচ্ছেন ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা। (ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক)।

By WNB24

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *